নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবের বাড়ি গতকাল বুধবার গভীর রাত থেকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। এরই মধ্যেই একটি ভবনের সামনের অংশ অনেকটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য ভবনের ২০ শতাংশ ভাঙা শেষ হয়েছে। এতে সেখানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, এই অবস্থা দেখতে ভিড় করেছে উৎসুক জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। এসময় তাদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বুধবার রাত থেকে শেখ মুজিবের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হলেও সকালে কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবারও শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে বাড়ি ভাঙার কাজ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বুলডোজার সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, ইট, হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়িটি ভাঙছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়া বিভিন্ন কক্ষে এখনও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপ ভবনের বিভিন্ন কক্ষে এবং বাইরে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সে সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘গোলামি-না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা গুঁড়িয়ে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘মুজিব বাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি দে হাসিনারে ফাঁসি দে’, ‘রশি লাগলে রশি নে হাসিনারে ফাঁসি দে’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাসার সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। পরে রাত ৮টার দিকে বাড়িটিতে প্রবেশ করেন তারা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনতার ভিড়ও বাড়তে থাকে। সে সময় বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতেই বাড়ির সামনে বুলডোজার আনা হয়।
এরআগে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনে যোগদানের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টার দিকে ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। এ ছাড়া সন্ধ্যায় ‘ছাত্র-জনতা আন্দোলন’ নামে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে পোস্ট করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ খবর পাওয়ার পরপরই ওইদিন বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছিল উত্তেজিত জনতা।
Leave a Reply